কখন গীবত করা জায়েজ..? 

গীবত করা ইসলামে প্রকাশ্য হারাম। গীবত মুসলিম সমাজের ভ্রাতুত্ব নষ্ট করতে বড় ধরনে ভূমিকা রাখে। তারপরেও কখনো তা ইসলাম জায়েজ করেছে.... কিন্তু কখন..?  জানতে হলে পড়ুন..
একঃ যে ব্যক্তি জুলুমের প্রতিকারের জন্য কিছু করতে পারে বলে আশা করা যায় এমন ব্যক্তির কাছে জালেমের কুকীর্তি তুলে ধরে মজলুমের ফরিয়াদ করা ৷
দুইঃ সংশোধনের উদ্দেশ্যে এমন ব্যক্তিদের কাছে কোন ব্যক্তি বা গোষ্ঠীর অপকর্মের কথা বলা যারা তার প্রতিকার করতে পারবেন বলে আশা করা যায় ৷
তিনঃ ফতোয়া চাওয়ার উদ্দেশ্যে কোন মুফতির কাছে প্রকৃত ঘটনা বর্ণনার সময় যদি কোন ব্যক্তির ভ্রান্ত কা
জ-কর্মের উল্লেখ করা প্রয়োজন হয় ৷
চারঃ মানুষকে কোন ব্যক্তি বা ব্যক্তিবর্গের অপকর্মের ক্ষতি থেকে রক্ষা করার জন্য সাবধান করে দেয়া ৷ যেমনঃ হাদীস বর্ণনাকারী, সাক্ষী এবং গ্রন্থ প্রণেতাদের দূর্বলতা ও ক্রুটি-বিচ্যুতি বর্ণনা করা সর্বসম্মত মতে প্রচারণা শুধু জায়েযই নয়, বরং ওয়াজিব ৷ কেননা , এ ছাড়া শরীয়াতকে ভুল রেওয়ায়াতের প্রচারণা ও বিস্তার থেকে , আদালতসমূহকে বেইনসাফী থেকে এবং জনসাধারণ ও শিক্ষার্থীদের শিক্ষার্থীদেরকে গোমরাহী থেকে রক্ষা করা সম্ভব নয় ৷ অথবা উদাহরণ হিসেবে বলা যায় , কোন ব্যক্তি কারো সাথে বৈবাহিক সম্পর্ক স্থাপন করতে আগ্রহী কিংবা কারো বাড়ীর পাশে বাড়ী খরিদ করতে চায় অথবা কারো সাথে অংশীদারী কারবার করতে চায় অথবা কারো কাছে আমানত রাখতে চায় সে আপনার কাছে পরামর্শ চাইলে তাকে সে ব্যক্তির দোষ-ত্রুটি ও ভাল মন্দ সম্পর্কে অবহিত করা আপনার জন্য ওয়াজিব যাতে না জানার কারণে সে প্রতারিত না হয় ৷
পাঁচঃ যেসব লোক গোনাহ ও পাপকার্যের বিস্তার ঘটাচ্ছে অথবা বিদআত ও গোমরাহীর প্রচার চালাচ্ছে অথবা আল্লাহর বান্দাদেরকে ইসলাম বিরোধী কর্মকাণ্ড ও জুলুম-নির্যাতনের মধ্যে নিক্ষেপ করেছে তাদের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে সোচ্ছার হওয়া এবং তাদের দুষ্কর্ম ও অপকীর্তির সমালোচনা করা
ছয়ঃ যেসব লোক কোন মন্দ নাম বা উপাধীতে এতই বিখ্যাত হয়েছে যে, ঐ নাম ও উপাধি ছাড়া অন্য কোন নাম বা উপাধি দ্বারা তাদেরকে আর চেনা যায় না তাদের মর্যাদা হানির উদ্দেশ্যে নয়, বরং পরিচায়দানের জন্য ঐ নাম ও উপাধী ব্যবহার করা ৷
( বিস্তারিত জানার জন্য দেখুন, ফাতহুল বারী, ১০ম খন্ড , পৃষ্ঠা, ৩৬২;শরহে মুসলিম-নববী , বাবঃ তাহরীমুল গীবাত ৷ রিয়াদুস সালেহীন, বাবঃ মা ইউবাহু মিনাল গীবাত ৷ আহকামুল কুরআন-জাস্সাস ৷ রুহুল মা'আনী -লা ইয়াগতার বাদুকুম বাদান-আয়াতের তাফসীর) ৷

এ ছাড়া সকল ধরনের গীবত করা হারাম যা কুরআন মৃত ভায়ের গোস্ত খাওয়ার সাথে তুলনা করেছে।
গীবত বলা হয়- কারো বিরুদ্ধে তার অনুপস্থিতিতে এমন কথা (অপবাদ) বলা যা শুনলে সে কষ্ট পেত। রাসুল (সঃ) বলেন- যদি সে অপবাদ তার মধ্যে না থাকে তাহলে সেটা হলো বুহতান বা মিথ্যা অপবাদ ৷ আর যদি তার মধ্যে ঐ দোষ-ত্রুটি থাকে তাহলে সেটা হবে গীবত ৷

মন্তব্যসমূহ

এই ব্লগটি থেকে জনপ্রিয় পোস্টগুলি

৩য় পর্বের ১৫তম তাফসীর (বাকারা ২৬৭-২৬৮)-পড়তে ও কমেন্ট করতে ক্লিক করুন।